জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে অভিনেতা আবুল হায়াতকে নাট্যজন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) আয়োজিত সাত দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ হায়দার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, আবুল হায়াত আমাদের দেশের অভিনয়ের বড় একজন শিল্পী। এত বড় শিল্পী হওয়া সহজ নয়। এর জন্য আধ্যাত্মিকতা প্রয়োজন, সাধনা প্রয়োজন। আবুল হায়াত ভাই সেটা অর্জন করেছেন। আপনারা যারা আবুল হায়াত ভাইকে দেখেন টেলিভিশনে অভিনয় করতে, আমরা যারা নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক আছি, তাদের গবেষণা করতে হবে আবুল হায়াতকে নিয়ে। অভিনয় শুধু করলেই হবে না, চরিত্র বুঝতে হবে, পরিস্থিতি বুঝতে হবে। ফুটবল খেলার সাথে তুলনা করলে আবুল হায়াত সেই খেলার মেসি কিংবা রোনালদো। আসাদুজ্জামান নূর, আবুল হায়াত এনাদের মতো প্রখ্যাত অভিনেতাদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।
এ সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, আজকের এই সম্মাননা আমার কাছে শুধু সম্মাননা নয়, সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শিল্প মানে শিক্ষা। আমি এখনো শিখি। আজকে ত্রিশালের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার মনে পড়ছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী, সাহিত্যের স্মারক। আমি নাটককে ভালোবাসি। ১০ বছর বয়সে নাটক শুরু করেছিলাম, যা এখন আমার রক্তের বিষ অর্থাৎ সমগ্র রক্তে মিশে গেছে। হয়ত পরিবার থেকেই এসেছে এই ভালোবাসা। কারণ আমার বাবাও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ১৯৫৪ তে আমি প্রথম মঞ্চে উঠি। আর এখন আমার অভিনয়ের বয়স ৭২ বছর আর আমার বয়স এখন ৮১-এর বেশি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অভিনয় মানেই শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা, চেহারা দেখানো নয়। অভিনয় মানে শিল্প। অভিনয় মানে বাস্তবতা তুলে ধরা। জীবনে সাফল্য আসবেই, কিন্তু সাফল্যের চেয়ে বড় হলো সততা, নিষ্ঠা। নাটক মানুষকে মানুষ হতে শেখায়, অন্যের আনন্দ অনুভূতি, দুঃখ অনুভূত করতে শেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। মনে রাখবে, অভিনয় হলো মিথ্যা। কিন্তু অভিনেতা কিংবা নাট্যকলার শিক্ষার্থী হিসেবে সেই মিথ্যাটাকে বাস্তবিক করে তুলতে হবে, সত্য বানাতে হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এসব করতে পারলেই একজন প্রকৃত অভিনেতা হতে পারবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনা শাখার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। ১২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ নাট্যোৎসব। সাত দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবে প্রতিদিন একটি করে নাটক মঞ্চস্থ হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



